হ্যানয়, ৫ জুন ২০২৫ – দীর্ঘ ১৬ বছর পর ভিয়েতনাম তাদের ‘দুই-সন্তান নীতি’ বাতিল করেছে। জন্মহার কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি পরিবার নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
কেন বাতিল হলো এই নীতি?
২০০৯ সালে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ভিয়েতনামে দুই-সন্তান নীতি চালু করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির জন্মহার উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। ২০২৪ সালে নারী প্রতি প্রজননের হার ১.৯১-এ নেমে এসেছে, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে কম।
ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে,
‘বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে কর্মক্ষম জনসংখ্যা মারাত্মকভাবে কমে যাবে।’
সরকারি কর্মচারী ও কমিউনিস্ট পার্টির ওপর কঠোর নিয়ম
এই নীতি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা শিথিল হলেও সরকারি কর্মকর্তা ও কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের জন্য কঠোরভাবে প্রযোজ্য ছিল। তৃতীয় সন্তান নিলে তাদের চাকরি ও দলীয় পদ হারানোর ঝুঁকি ছিল।
একজন প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা গুয়েন ম্যান হুং তার তৃতীয় সন্তানের কারণে কমিউনিস্ট পার্টি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার স্ত্রী ট্রান ফুং মাই বলেন,
‘আমরা চাইনি ঝামেলায় পড়ি, তাই স্বামীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এখন এই নীতি বাতিল হলেও আমাদের জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
সন্তান প্রতিপালনের উচ্চ খরচ
অনেক পরিবারই আর্থিক চাপের কারণে বেশি সন্তান নিতে চাইছে না। সমাজতাত্ত্বিকদের মতে, ভিয়েতনামে একটি সন্তানকে বড় করতে মাসে গড়ে ১-২ কোটি ভিয়েতনামী ডং (৩৮০-৭৬০ ডলার) খরচ হয়, যা দেশের গড় আয়ের চেয়েও বেশি।
চীনের মতো ভিয়েতনামও নীতি বদলাল
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাও হং লান জানিয়েছেন,
‘বিশ্বের অনেক দেশই জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতি বাদ দিয়েছে। ভিয়েতনামও সেই ধারায় এগিয়েছে।’
২০১৬ সালে চীন তাদের ‘এক সন্তান নীতি’ শিথিল করে এবং ২০২১ সালে তিন সন্তান নেওয়ার অনুমতি দেয়। ভিয়েতনামও এখন একই পথে হাঁটছে।
লিঙ্গ বৈষম্য রোধে নতুন পদক্ষেপ
ভিয়েতনামে পুত্রসন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। লিঙ্গ ভারসাম্য রক্ষায় সরকার জন্মপূর্ব লিঙ্গ পরীক্ষার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। এজন্য জরিমানার পরিমাণ ৩.৮ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।
দুই-সন্তান নীতি বাতিল ভিয়েতনামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে এই নীতির সফলতা নির্ভর করবে সরকারের অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচির ওপর।
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত