দ্য কনটিনেন্টাল হেরাল্ড ডেস্ক রিপোর্ট | ১৮ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে ইসরায়েল-ইরান সম্পর্ক। গত রাতভর ইরান ইসরায়েলের দিকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সূত্র মতে, প্রথম পর্যায়ে অন্তত ৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে ইসরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর দিকে।
এই আক্রমণকে ইরান বলেছে ‘প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া’, যা ইসরায়েলের আগের প্রিম্পটিভ স্ট্রাইকের জবাবে চালানো হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (IRGC) জানিয়েছে, হামলার টার্গেট ছিল ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি ও গোপন পরমাণু গবেষণাগার।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আয়রন ডোম সিস্টেম ও ডেভিডস স্লিং মিসাইল সিস্টেম প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে কিছু মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে।
এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিস্ফোরণে বেশ কিছু ভবন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং স্কুল ও হাসপাতালে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি এই উত্তেজনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে উভয়পক্ষকে সংযম দেখাতে আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে জি৭ দেশগুলো জরুরি বৈঠকে বসেছে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায়।
পাশাপাশি হামলা ইয়েমেন ও লেবানন থেকেও:
হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকেও একই সময়ে ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ইরান এ ধরনের সহযোগিতাকে “আঞ্চলিক প্রতিরোধের সমন্বিত কৌশল” বলে দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটাই সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সংঘবদ্ধ সামরিক সংঘর্ষ।