নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৫, ৩:০১ PM
রাশিয়ায় তৈরি এমআই-১৭১ এ ২ মডেলের হেলিকপ্টার আনার পথে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নামক বড় বাধার সামনে পড়েছে বাংলাদেশ। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে করা একটি চুক্তি বর্তমান প্রশাসনকে জটিল কূটনৈতিক ও আর্থিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলেছে, যেখানে একদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোষাণ্জ্ঞার ভয়, অন্যদিকে শতকোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা।
গত সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার সাথে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়নের সময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় বর্তমান সরকার একটি জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
চুক্তির পেছনের ইতিহাস
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,
- ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ পুলিশ ও রাশিয়ার জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টার্স নামক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
- পরবর্তীতে একই বছরের নভেম্বর মাসে ঢাকায় আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির আওতায় দুটি এমআই-১৭১ এ২ মডেলের হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মোট মূল্য ধার্য করা হয় ৪০০ কোটি টাকা।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: অগ্রাহ্য করা সতর্কতা
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসেই, অর্থাৎ চুক্তি স্বাক্ষরের ছয় মাস আগে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টার্সসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কিন্তু এই সতর্কতা উপেক্ষা করেই পরবর্তীতে নভেম্বরে চুক্তি সই করা হয় এবং ২৯৮ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি এখন প্রশ্নের সম্মুখীন।
বর্তমান সরকারের জন্য জটিলতা
বর্তমান সরকারের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
- একদিকে, চুক্তি মেনে হেলিকপ্টার দুটি আমদানি করলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, যা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- অন্যদিকে, চুক্তি থেকে সরে আসা বা বাতিল করার অর্থ হলো পরিশোধিত ২৯৮ কোটি টাকা স্রোতে ভেসে যাওয়া।
- চুক্তির শর্তানুযায়ী, চুক্তি ভঙ্গ করলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সকল ব্যয় দাবি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা করতে পারে, যা বাংলাদেশকে আরও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে।
সমাধানের পথ খুঁজছে সরকার
এই জটিলতা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছে। হেলিকপ্টার দুটি সম্পূর্ণ বেসামরিক কাজে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারের জন্য আনা হচ্ছে— এই যুক্তি দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অনুমতি আদায়ের চেষ্টা করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকফা (বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম) চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনা একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত