নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৫, ৯:১৭ PM
ফিলিস্তিনি সাবেক অ্যাথলেট মোহাম্মদ শালান ছিলেন জাতীয় বাস্কেটবল দলের অন্যতম তারকা। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অসুস্থ মেয়ের জন্য খাবার ও ওষুধ খুঁজতে বের হওয়া তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়। ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে প্রাণ হারান তিনি, রেখে যান শোকসন্তপ্ত পরিবার।
অসুস্থ মেয়ের জন্য শেষ চেষ্টা
৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ শালান স্থানীয় ও জাতীয় দলে খেলেছেন দীর্ঘদিন। কিডনি বিকল ও রক্তে সংক্রমণে ভুগছে তার মেয়ে মরিয়ম। মঙ্গলবার তিনি খান ইউনুসের একটি বিতরণ কেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে যান। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বের হওয়া সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়—তার পরিবারে ফেরে কেবল শালানের নিথর দেহ।
“দ্য আর্থকোয়েক” থেকে চিরবিদায়
সহখেলোয়াড়দের কাছে “দ্য আর্থকোয়েক” নামে পরিচিত ছিলেন শালান। গাজার ক্রীড়া অঙ্গনে তার অবদান ছিল অপরিসীম। কিন্তু যুদ্ধ ও অবরোধে collapsing সমাজব্যবস্থায় তার মতো শত শত ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু শালান নন, সম্প্রতি ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন আরেক সাবেক খেলোয়াড় সুলেইমান আল-ওবেইদ, যিনি “প্যালেস্টাইনিয়ান পেলé” নামে পরিচিত ছিলেন।
গাজায় ক্রীড়াবিদদের মৃত্যু সংখ্যা ৮০০ ছাড়াল
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৮০০–এরও বেশি ক্রীড়াবিদ নিহত হয়েছেন। অবরোধ, দুর্ভিক্ষ, চিকিৎসার অভাব এবং টানা বোমাবর্ষণে গাজার ক্রীড়া অবকাঠামো প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ১,৩০০–এরও বেশি মানুষ খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
ফিলিস্তিনি সাবেক অ্যাথলেট মোহাম্মদ শালান–এর মৃত্যু গাজার মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন তারকা খেলোয়াড় যিনি একসময় দেশের গর্ব ছিলেন, আজ খাবারের সন্ধানে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারালেন। গাজার প্রতিটি পরিবার আজ একই প্রশ্ন করছে—আর কত প্রাণের বিনিময়ে শান্তি আসবে?
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত