নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫৯ PM
সিলেটের বিভিন্ন নদী, পর্যটনকেন্দ্র এবং সংরক্ষিত এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধ বালু তোলা। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই বালু লুটপাট এখন প্রকাশ্যে চলছে। সিলেটে নির্বিচার বালু লুট শুধু পরিবেশ নয়, পর্যটন খাতের ভবিষ্যৎকেও অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
শ্রীপুর ও রাংপানির সৌন্দর্য হারাচ্ছে
কখনো পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত শ্রীপুর ও রাংপানি এখন প্রায় বিরান। বালু ও পাথর লুটের কারণে প্রাকৃতিক দৃশ্য বদলে গেছে একেবারে। একসময় যেখানে পাহাড়ঘেরা নদী ও টিলাসদৃশ বালুর স্তূপ দেখা যেত, আজ সেসব জায়গা হয়ে উঠেছে শ্রীহীন। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এ লুটপাট আরও বেড়েছে।
প্রশাসনের অভিযান, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নেই
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, সিলেটে ৪০টি বালুমহাল রয়েছে, যার মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫টিতে। বাকি অংশে চলছে অবৈধ উত্তোলন। যদিও মাঝে মাঝে প্রশাসন অভিযান চালাচ্ছে, স্থানীয়রা মনে করেন, কেবল নামকাওয়াস্তে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে লুটপাটকারীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে গেছে।নদী-পর্যটনকেন্দ্র হয়ে পড়ছে বিরানভূমি
জাফলং, লালাখাল, শ্রীপুর, রাংপানি—একসময় সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে পরিচিত এসব স্থানে এখন নৌকা আর ট্রাকভর্তি বালু ওঠানামার দৃশ্যই বেশি চোখে পড়ে। পরিবেশবিদরা বলছেন, বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আকর্ষণ হারিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বালু লুট
স্থানীয় সূত্র জানায়, একসময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব বালুমহাল এখন বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের যৌথ নিয়ন্ত্রণে চলছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কার্যকর কোনো প্রতিরোধ গড়ে উঠছে না।
সিলেটে নির্বিচার বালু লুট এখন শুধু পরিবেশ নয়, প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ অঞ্চল রক্ষায় কড়া আইন প্রয়োগ, টেকসই পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত