নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১১:০১ AM
ভারতের স্কুলে বোরকা পরা ছাত্রীদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানো নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের ভাবনগরে, যেখানে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নাটক মঞ্চস্থ করে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে কালো বোরকা পরে কয়েকজন ছাত্রীকে খেলনা বন্দুক হাতে ‘সন্ত্রাসী’ চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং জেলা শাসকের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়।
ভিডিওর দৃশ্য ও অভিযোগ
প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরিহিত ছাত্রীদের হাতে খেলনা বন্দুক এবং তারা অন্য ছাত্রীদের দিকে হামলার অভিনয় করছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছিল দেশাত্মবোধক গান, যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। মুসলিম নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্দোষ শিশুদের ব্যবহার করে এভাবে মুসলমানদের ‘সন্ত্রাসী’ রূপে উপস্থাপন করা ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করবে।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
গুজরাটের মুসলিম নেতা জহুরভাই জেজা বলেন,
“এটি মুসলমানদের কলঙ্কিত করার চেষ্টা। নিরপরাধ শিশুদের দিয়ে বোরকা পরিয়ে সন্ত্রাসী বানানো হয়েছে, যা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দায়ী করে তাদের বরখাস্ত করার দাবি জানান।স্কুল ও প্রশাসনের অবস্থান
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্কুলের প্রিন্সিপাল রাজেন্দ্র কুমার দাভে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন,
“আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল অপারেশন সিন্দুর নাটক উপস্থাপন করা, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা নয়।”
অন্যদিকে শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতের স্কুলে বোরকা পরা ছাত্রীদের সন্ত্রাসী হিসেবে দেখানো ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় বিতর্কে রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাঙ্গন বিভাজনের স্থান হতে পারে না। বরং এ ধরনের আয়োজন বন্ধ করে শিশুদের মাঝে ঐক্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মূল্যবোধ গড়ে তোলা উচিত।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত