দ্য কন্টিনেন্টাল হেরাল্ড ডেস্ক রিপোর্ট | ৩১ আগস্ট ২০২৫
ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাউই নিহত হয়েছেন বলে শনিবার হুথি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান-সমর্থিত এ গোষ্ঠী।
হুথি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাজধানী সানায় এক বৈঠকের সময় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন প্রধানমন্ত্রী রাহাউই ও তাঁর মন্ত্রিসভার শীর্ষ নেতারা। হামলায় আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।
হুথি শীর্ষ পরিষদের প্রধান মাহদি আল-মাশাত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “আমরা আল্লাহর কাছে, ইয়েমেনের জনগণের কাছে এবং নিহতদের পরিবারের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা এই রক্তের বদলা নেব। আমাদের এই ক্ষতই হবে আমাদের শক্তি ও বিজয়ের পথ।”
রাহাউই ইসরায়েলের হামলায় নিহত হুথি নেতৃত্বের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ ব্যক্তি। হুথি সরকার জানিয়েছে, হামলার সময় শীর্ষ পর্যায়ের একটি কর্মশালা চলছিল, যেখানে গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন করা হচ্ছিল। স্থানীয় সূত্র বলছে, গোষ্ঠীর গোপনীয় নেতা আবদুল মালেক আল-হুথির বক্তব্য শোনার জন্য শীর্ষ নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন, যা ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
হুথি প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসের আল-আতিফি হুথি টেলিভিশনে বলেন, “আমরা সব স্তরে মার্কিন-সমর্থিত জায়নিস্ট শত্রুর মোকাবিলায় প্রস্তুত।”
শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি হুথি নেতৃত্বের ওপর একটি “অভূতপূর্ব আঘাত”। কাটজ এক বিবৃতিতে বলেন, “হুথি প্রধানমন্ত্রী, তার বেশিরভাগ মন্ত্রী এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত বা আহত হয়েছেন। আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম, অন্ধকারের প্লেগের পর আসবে প্রথম সন্তানদের প্লেগ। আজ আমরা সেই সতর্কবাণী বাস্তবায়ন করেছি।”
হুথি বিদ্রোহীরা গত দুই বছর ধরে ইসরায়েল-গাজা সংঘাতের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে লোহিত সাগরে জাহাজ হামলা চালাচ্ছে এবং ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্বে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। গত বছর তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর কিছুদিন পর বৈরুতে বিমান হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন। এছাড়া গাজায় এক অভিযানে নিহত হন হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং তার ভাই মোহাম্মদ সিনওয়ারও।
গত ডিসেম্বরেই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রকাশ্যে হুথি নেতৃত্বকে টার্গেট করার হুমকি দিয়েছিলেন।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, সানার প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস কমপ্লেক্স, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানী মজুদ সুবিধাগুলোতেও পরিচালিত হয়। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইয়েমেনে হামলার কৌশল পরিবর্তন করছে তেলআবিব।
২০১৪ সালে সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে হুথি বিদ্রোহীরা উত্তর ইয়েমেনের বড় অংশের ক্ষমতা ধরে রেখেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন ধরেও তাদের সরাতে ব্যর্থ হয়েছে।
#ইসরায়েল #ইয়েমেন #হুথি #মধ্যপ্রাচ্যসংঘাত #TheContinentalHerald