নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫
নারায়ণগঞ্জের খানপুর এলাকায় ঘটে গেছে এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। বাড়ির এক নিরাপত্তা প্রহরীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে প্রকাশ্যে। সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার শিকার প্রহরীর নাম আবু হানিফ (৩০)। তিনি বাগেরহাটের খন্তাকাটা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে এবং খানপুরের জিতু ভিলায় নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে স্থানীয় এক যুবক অভির নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি হানিফকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। পরে খানপুর চিলড্রেন পার্কে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
এক পর্যায়ে হানিফ অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ
নিহতের ভগ্নিপতি ইব্রাহিম মিয়া জানান, অভিযুক্তরা আগে থেকেই হানিফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও উত্ত্যক্তের মিথ্যা অভিযোগ তুলে টাকা দাবি করছিলেন। টাকা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি তার।
তিনি বলেন, “হানিফ নিরপরাধ ছিল। যারা এই কাজ করেছে, তারা আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাইত।”
পুলিশের অবস্থান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর থেকে খানপুর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, হানিফ একজন শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জে নিরাপত্তা প্রহরীকে পিটিয়ে হত্যা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি সমাজের নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে—এমনটাই আশা স্থানীয়দের।
#নারায়ণগঞ্জ #হত্যা #বাংলাদেশসংবাদ #BreakingNews #TheContinentalHerald
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত