নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
হামাস দুই ইসরায়েলি বন্দীর মরদেহ হস্তান্তর করেছে — এই ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার, মাত্র একদিন পরই যখন গাজার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি আবার ভেঙে পড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায়। গাজার দক্ষিণাঞ্চল খান ইউনুসে এই হামলায় শিশুসহ বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, রেড ক্রসের সহায়তায় গাজা থেকে দুই বন্দীর মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে।
চুক্তি ও বর্তমান পরিস্থিতি
- যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তির অধীনে, হামাস ২০ জন জীবিত বন্দী ফেরত দিয়েছে, বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দী মুক্ত করেছে।
- তবে হামাসের দাবি—এখনও বহু মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে রয়ে গেছে, উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে তাদের আরও যন্ত্রপাতি ও সহায়তা প্রয়োজন।
- গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ১০৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৬ জন শিশু ও ২০ জন নারী।
মানবিক সহায়তার বাধা
জাতিসংঘের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রায় ২৪,০০০ টন সহায়তা গাজায় পৌঁছেছে, তবে এনজিওগুলো এখনও প্রবেশে বাধার মুখে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে খাদ্য ও ওষুধ বিতরণে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ ও অনিশ্চয়তা
ইসরায়েলি সেনারা পূর্ব গাজা সিটিতে বাড়িঘর ধ্বংস অব্যাহত রেখেছে। ট্যাঙ্ক ও বুলডোজারে পুরো এলাকা সমতল করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এখন বাস্তুচ্যুত, এবং অধিকাংশই ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন—যে কোনো সময় আবার হামলার আশঙ্কায়।
হামাস দুই ইসরায়েলি বন্দীর মরদেহ হস্তান্তর করেছে—এই ঘটনাটি গাজার সংঘাতের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে। একদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি দেখাচ্ছে যে শান্তির পথ এখনও অনেক দূর।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত