প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর মাত্র ১০০ দিনের মধ্যেই বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির ধারাবাহিকতায় তিনি বিশ্ব বাণিজ্যে নজিরবিহীন শুল্কযুদ্ধ শুরু করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছেন, ন্যাটো মিত্রদের খাটো করেছেন এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের বর্ণনাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন।
বিশ্বব্যবস্থার মূল স্তম্ভে আঘাত
ওয়াশিংটন, টোকিও ও ব্রাসেলস থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের আচরণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে।
তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলের, পানামা খাল পুনরুদ্ধারের এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য বানানোর কথা প্রকাশ্যে বলেছেন — যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
মিত্রদের বিচ্ছিন্ন করা, প্রতিপক্ষদের উৎসাহ দেওয়া
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্ররা দূরে সরে যাচ্ছে এবং প্রতিপক্ষরা সাহস পাচ্ছে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেনিস রস বলেন,
“বিশ্ব রাজনীতিতে বিশাল এক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এখন কেউই নিশ্চিত নয়, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে।”
বিশ্বজুড়ে নতুন হিসাব-নিকাশ
-
ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর চিন্তা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
-
দক্ষিণ কোরিয়ায় নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির দাবি জোরালো হচ্ছে।
-
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে অনেক মার্কিন মিত্র দেশের মধ্যে।
গণতন্ত্রের প্রশ্নে উদ্বেগ
দেশের ভেতরে বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ভাষাগত আক্রমণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর চাপ, এবং অভিবাসীদের এল সালভাদরের berkh্যাত কারাগারে পাঠানো — এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প নরম হবেন?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও কিছু ইস্যুতে ট্রাম্প নরম সুর দেখিয়েছেন (যেমন: কিছু শুল্ক পরিকল্পনায় পরিবর্তন), তবে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।
এর পরিবর্তে, অনেক দেশ স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করছে, যাতে ভবিষ্যতে ট্রাম্পের মতো অনিশ্চিত নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষা দেওয়া যায়।