দি কন্টিনেন্টাল হেরাল্ড | ৮ মে ২০২৫ | লন্ডন প্রতিনিধি
মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ববিখ্যাত দানবীর বিল গেটস বৃহস্পতিবার এক চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যেই নিজের প্রায় সব সম্পদ বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দান করে দেবেন—মোট পরিমাণ আনুমানিক ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
একই সঙ্গে এলন মাস্কের কড়া সমালোচনা করে গেটস বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বিশ্বের সবচেয়ে গরীব শিশুদের হত্যা করছেন”।
তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা বাজেট যেভাবে কেটে ফেলা হয়েছে, তা দরিদ্র দেশগুলোর শিশু ও নারীদের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। উল্লেখ্য, এই বাজেট কর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাস্কের নেতৃত্বাধীন “ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি (DOGE)”।
গেটস বলেন, “এই বাজেট কাটের ফলে আগামী ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে বিশ্বে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। কোটি কোটি প্রাণহানি ঘটবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার মৃত্যুর পরে অনেক কিছুই বলা হবে। কিন্তু আমি চাই না মানুষ বলুক—‘সে ধনী অবস্থায় মারা গেছে’। এখনই সময়, আমার সম্পদ মানুষকে সাহায্য করার কাজে ব্যয় করার।”
২০৪৫ সালের মধ্যে ফাউন্ডেশনের সমাপ্তি
বিল গেটস ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৪৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফাউন্ডেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণাটি ফাউন্ডেশনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া হয়। তিনি ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস ২০০০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
এ পর্যন্ত এই ফাউন্ডেশন প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার দান করেছে, যার মাধ্যমে লাখ লাখ জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
গেটস বলেন, “যত বড়ই হোক না কেন ব্যক্তিগত দান, সরকারের সহায়তা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তিনি আফ্রিকার কিছু দেশের প্রশংসা করেন, যারা নিজেদের বাজেট থেকে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। তবে জানান, পোলিও নির্মূলের মতো বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে মার্কিন সহায়তা ছাড়া কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব নয়।
এলন মাস্কের সঙ্গে দ্বন্দ্ব
এক সময় গেটস ও মাস্ক ধনীদের দানের ব্যাপারে একমত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বিশেষত মাস্ক সরকারের বাজেট কাটছাঁট ও বৈদেশিক সহায়তা হ্রাসের কারণে গেটস কড়া সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
সম্পদ দিয়ে সমাজে ফেরত দেওয়া উচিত
গেটস বলেন, “আমি আশা করি, বিশ্বের অন্য ধনীরাও ভাববেন—তাঁদের সম্পদ কীভাবে পৃথিবীর দরিদ্র মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। দ্রুত ও বড় পরিসরে দান করলে আরও তীব্র প্রভাব ফেলা সম্ভব।”
বিশ্বের বর্তমান বৈষম্যমূলক বাস্তবতায় বিল গেটসের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে মানবতার জন্য এক অনন্য বার্তা।