দ্য কন্টিনেন্টাল হেরাল্ড ডেস্ক রিপোর্ট | ২০ জুলাই ২০২৫
গাজার উত্তরের শহর বেইত হানুন আজ যেন এক মৃত্যুপুরীর নাম। যুদ্ধের নৃশংসতা ও বোমা হামলার ধারাবাহিকতায় শহরটি পরিণত হয়েছে এক ধ্বংসস্তূপে। সম্প্রতি প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্র ও সরেজমিনে ধারণকৃত ছবিতে দেখা যায়, গোটা এলাকা যেন এক ধ্বংসযজ্ঞের জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে।
ঘরবাড়ি, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুলসহ প্রায় সব স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গেছে। ধুলোর স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে হাজারো মানুষের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস। যারা জীবিত আছেন, তারা বেঁচে থাকলেও আশ্রয়হীন, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে ধুঁকছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার বিমান হামলা ও স্থল অভিযানে শহরের ৮০ শতাংশের বেশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধ্বংসযজ্ঞকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।
একটি ছবিতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধা ধ্বংসস্তূপে নিজের ঘর খুঁজে ফিরছেন, পাশে দাঁড়িয়ে এক শিশু — যার চোখে শুধুই শূন্যতা। আরেক ছবিতে দেখা গেছে, একটি স্কুলের দেয়ালে ঝুলছে ছেঁড়া বইয়ের পাতা, যেন অবরুদ্ধ শিক্ষার একটি প্রতীক।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধুমাত্র বেইত হানুন অঞ্চল থেকেই শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহতদের অনেকেই চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছেন।
জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বেইত হানুন বর্তমানে বসবাসের উপযুক্ত নয়। এটি এখন একটি মানবিক বিপর্যয়ের অঞ্চল।”
বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গাজার একটি বেসরকারি সংস্থার এক কর্মী বলেন, “এই ছবি শুধু ধ্বংস নয়, এটি আমাদের মানবতার ব্যর্থতার ছবি।”
এই যুদ্ধের শেষ কোথায় — তা কেউ জানে না। তবে বেইত হানুনের এই চিত্র আজ গোটা দুনিয়াকে মনে করিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ কখনো কারও জন্য বিজয় বয়ে আনে না, শুধু রেখে যায় মৃত্যু আর ধ্বংসের স্মৃতি।