হোম / আন্তর্জাতিক / শিকাগোতে ফেডারেল অভিবাসন অভিযান শুরু হতে পারে, ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় স্থানীয় নেতৃত্ব
chicago-federal-immigration-crackdown-trump-local-officials

শিকাগোতে ফেডারেল অভিবাসন অভিযান শুরু হতে পারে, ট্রাম্পের কড়া সমালোচনায় স্থানীয় নেতৃত্ব

দ্য কন্টিনেন্টাল হেরাল্ড ডেস্ক রিপোর্ট | ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বড় ধরনের ফেডারেল অভিবাসন অভিযান শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং শহরের মেয়র ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন দমন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

রবিবার ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেবি প্রিৎজকার এই পরিকল্পনাকে ‘আক্রমণ’ বলে আখ্যা দেন এবং জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। “কেউ আমাকে বা আমার প্রশাসনের কাউকে কিছু জানায়নি। গোপনে পরিকল্পনা করছে—যদি জাতীয় গার্ড পাঠানো হয়, সেটা হবে আমাদের ওপর মার্কিন সেনা দিয়ে আক্রমণ,” বলেন প্রিৎজকার।

 

সম্ভাব্য অভিযান ও প্রশাসনের প্রস্তুতি

 

বহু সূত্র জানায়, শুক্রবারের মধ্যেই শিকাগোতে অভিযান শুরু হতে পারে, যেখানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই), কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এবং শান্তিরক্ষী হিসেবে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন থাকতে পারে।

গৃহনিরাপত্তা বিষয়ক সচিব ক্রিস্টি নোয়েম বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে শিকাগোসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আইসিই অভিযানে কাজ করছি। এখন আরও সম্পদ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

শিকাগো মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন শনিবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে শহরের সংস্থাগুলোর করণীয় নির্ধারণ করেছেন। আদেশে বলা হয়েছে, শিকাগো পুলিশ ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে অভিবাসনবিষয়ক অভিযানে সহযোগিতা করবে না। তিনি আরও আহ্বান জানান ফেডারেল কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের এবং মুখোশ না পরার জন্য।

“আমরা সামরিকীকৃত অভিবাসন দমন দেখতে পারি, সশস্ত্র বাহিনী ও সাঁজোয়া যান রাস্তায় নামতে পারে। আমাদের নাগরিকরা এসব চাননি, আমরা তা ডাকি নি। তবুও আমাদের এ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে,” বলেন মেয়র জনসন।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা ও হুমকি

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই শিকাগোর অপরাধের হার এবং স্থানীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে আসছেন। শনিবার ট্রাম্প গভর্নর প্রিৎজকারকে সতর্ক করে বলেন, “সে যদি দ্রুত শিকাগোর অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনে, তাহলে ফেডারেল সরকার হস্তক্ষেপ করবে।”

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, “গত সপ্তাহান্তে শিকাগোতে ছয়জন নিহত এবং ২৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গভর্নর প্রিৎজকার বলছেন তিনি সাহায্য চান না। তিনি পাগল হয়ে গেছেন! দ্রুত পরিস্থিতি সামলাতে হবে, না হলে আমরা আসছি।”

রবিবার সকাল থেকে ছুটি শেষে শিকাগোতে অন্তত ৫২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন নিহত। শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এসব হামলার শিকারদের বয়স ১৪ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।

 

পাল্টা যুক্তি ও অপরাধের হার কমার দাবি

 

অন্যদিকে শিকাগো সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি বছর শহরে সহিংস অপরাধের হার ২১.৬ শতাংশ এবং হত্যার হার ৩২.৩ শতাংশ কমেছে।

তবে গৃহনিরাপত্তা সচিব নোয়েম বলেন, “প্রিৎজকার তার কাজ নিয়ে গর্ব করতে পারেন, কিন্তু তিনি পরিবারগুলোকে ব্যর্থ করেছেন। এটা তার অহংকারের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয় নয়।”

 

অভিযানের বিস্তার সম্ভাবনা

 

নোয়েম ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিকাগোর পাশাপাশি সান ফ্রান্সিসকো ও বোস্টনেও একই ধরনের অভিযান হতে পারে। এমনকি রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন অপরাধপ্রবণ শহরগুলোও পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেডারেল অভিযানের এ পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন শহরগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

#Chicago #Trump #Immigration #USA #FederalOperation #TheContinentalHerald

Share
Scroll to Top