নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
বিশ্ববাণিজ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা চীন–এর সাম্প্রতিক বড় সিদ্ধান্ত। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের মাত্র একদিন পরেই চীন প্রায় ৩০ কোটি ডলারের সয়াবিন আমদানি করে। এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটন–বেইজিং সম্পর্কের উষ্ণতা কতটা বাড়ছে, তা স্পষ্টভাবে বোঝাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা চীন বর্তমানে বৈশ্বিক সরবরাহচেইন ও রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন গতি আনছে।
বড় আকারের কেনাকাটা
ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়:
- চীন ১০–১৫টি সয়াবিন কার্গো কিনেছে।
- প্রতিটি কার্গোর ওজন ৬০,০০০–৬৫,০০০ মেট্রিক টন।
- সব কার্গো জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট ও প্যাসিফিক নর্থওয়েস্ট বন্দর থেকে পাঠানো হবে।
- এত বড় কেনাকাটা এমন সময়ে করা হয়েছে যখন মার্কিন সয়াবিনের দাম ব্রাজিলের তুলনায় বেশি।
বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন বার্তা
ফোনালাপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্ককে “অত্যন্ত শক্তিশালী” বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান,
- চীনের আরও বেশি মার্কিন পণ্য আমদানিতে সম্মতি রয়েছে।
- সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাণিজ্য শিথিলতার ইঙ্গিত বাড়ছে।
দাম বেশি হলেও কেন যুক্তরাষ্ট্র?
বিশ্লেষকদের মতে:
- চীন গালফ টার্মিনালের জন্য প্রতি টনে ২.৩ ডলার এবং প্যাসিফিক রুটের জন্য ২.২ ডলার প্রিমিয়াম দিয়েছে।
- ব্রাজিলের প্রিমিয়াম মাত্র ১.৮ ডলার।
- তবুও চীন দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নিয়েছে।
- রাষ্ট্রায়ত্ত সিওএফসিও ইতোমধ্যেই প্রায় ২০ লাখ টন মার্কিন সয়াবিন বুক করেছে, যা চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
চীনের এই বড় কেনাকাটা শুধু খাদ্যশস্য আমদানির অংশ নয়—এটি যুক্তরাষ্ট্র–চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলার বড় প্রমাণ। বৈশ্বিক বাজার এখন অপেক্ষায় আছে এই উষ্ণতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত