হোম / আন্তর্জাতিক / ইসরায়েল নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে পদত্যাগ করলেন ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ফেল্ডক্যাম্প

ইসরায়েল নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে পদত্যাগ করলেন ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ফেল্ডক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৫

 

 

ইসরায়েল নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগ ইউরোপীয় কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইসরায়েলের গাজা অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি মন্ত্রিপরিষদের সমর্থন হারান এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

 

কেন পদত্যাগ করলেন ফেল্ডক্যাম্প?

 

ফেল্ডক্যাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপে উদ্যোগী ছিলেন। তিনি ইসরায়েলের কট্টর-ডানপন্থী দুই মন্ত্রী—বেজালেল স্মোটরিচ ও ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। এছাড়া তিনি নৌবাহিনীর জাহাজের যন্ত্রাংশের তিনটি রপ্তানি অনুমতিও বাতিল করেন। তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ, বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার প্রস্তাবে জার্মানি ও মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন।

 

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সমর্থন

 

ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগের পর তার দল “নিউ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট”–এর সব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সংহতি জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন। এর ফলে নেদারল্যান্ডস কার্যত পররাষ্ট্রমন্ত্রীহীন হয়ে পড়েছে, এমন সময় যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় ব্যস্ত।

 

সংসদ ও জনমতের চাপ

 

ডাচ সংসদ ও বিরোধীদল দীর্ঘদিন ধরে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দাবি করে আসছিল। আল জাজিরার বার্লিন প্রতিনিধি জানান, গাজায় ইসরায়েলের আক্রমণ ও পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তের কারণে ফেল্ডক্যাম্প ক্রমেই তীব্র চাপের মুখে পড়েন। তার মতে, নেদারল্যান্ডসকে ইইউ’র অপেক্ষা না করে স্বাধীনভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

ইউরোপ-ইসরায়েল সম্পর্ক

 

যদিও নেদারল্যান্ডস কিছু সীমিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তবুও দেশটির রটারডাম বন্দরের মাধ্যমে ইসরায়েলের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত আছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো গাজায় আক্রমণে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৬২,০০০ এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

 

 

ইসরায়েল নিষেধাজ্ঞা ইস্যুতে ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ফেল্ডক্যাম্পের পদত্যাগ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির দুর্বলতার প্রতিফলন। এখন প্রশ্ন থেকে যায়—ডাচ রাজনীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কি ইসরায়েলের প্রতি তাদের অবস্থান কঠোর করবে, নাকি দ্বিধাগ্রস্তই থেকে যাবে?

 

সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা

© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Share
Scroll to Top