ঢাকা, ৫ জুন ২০২৫ – মুসলিম প্রধান দেশ মরক্কোতে এ বছর ঈদুল আজহায় কোরবানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। দেশটির রাজা পঞ্চম মোহাম্মদের জারি করা রাজকীয় ডিক্রিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
মরক্কোর ইসলাম ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ তৌফিক জানিয়েছেন, “গত কয়েক বছর ধরে চলা খরা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশে পশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।” এ অবস্থায় কৃষি ও পশুসম্পদ রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মরক্কোতে গবাদি পশুর সংখ্যা গত পাঁচ বছরে ৪০% কমেছে। বিশেষ করে ভেড়া ও গরুর পালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কঠোর নজরদারি ও জরিমানা
সরকারি আদেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে:
- কোরবানির পশু জব্দ
- বিপুল অর্থ জরিমানা
- বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা
- ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বাহিনী কর্তৃক বাড়ি থেকে ভেড়া জব্দ করার ভিডিও।
কৃষকদের ক্ষোভ
কৃষক নেতা আব্দেল ফাত্তাহ আমের বলেন, “খরায় ইতিমধ্যেই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত। ঈদের জন্য প্রস্তুত করা পশু বিক্রি না হলে আরও ধ্বংস হবে কৃষক পরিবারগুলো।” তিনি সরকারকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। অনেক মুসল্লি বলছেন, “ধর্মীয় রীতি মানতে আমরা কোরবানি করবই।”
মরক্কোর এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ সংকট ও ধর্মীয় রীতির মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত