নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৫, ৫:৪৩ PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আনলেন সুখরঞ্জন বালি। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার আলোচিত সাক্ষী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) তিনি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
সুখরঞ্জন বালির বক্তব্য
সাংবাদিকদের সামনে সুখরঞ্জন বালি দাবি করেন, ২০১২ সালের ৫ নভেম্বর তিনি সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হলে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে গুম করে রাখা হয় প্রায় ২ মাস ১৭ দিন, পরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। ভারতে পৌঁছানোর পর তাকে পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে আসামিপক্ষের সাক্ষ্য দিতে গেলে এই ঘটনার শিকার হন।
অভিযোগে যাদের নাম
সুখরঞ্জন বালির দাখিল করা অভিযোগে
- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
- সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা,
- ট্রাইব্যুনালের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম,
- সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ,
- সাবেক প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত,
- সাবেক প্রসিকিউটর হায়দার আলীসহ মোট ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বালির এই অভিযোগ আবারও প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালি ও ন্যায়বিচারের পরিবেশ নিয়ে। সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচার ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের অভিযোগ শুধু একটি ব্যক্তিগত দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল। এখন দেখার বিষয়, কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং ভবিষ্যতে এমন অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেয়।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত