হোম / বাংলাদেশ / অপরাধ ও আইন / ‘এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে’— আদালত চত্বরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক

‘এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে’— আদালত চত্বরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক

নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৫, ৩:৪১ PM

 

আদালত চত্বরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলক এর এই উক্তি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হাতকড়া পরা অবস্থায় যখন তাকে আদালত কক্ষে তোলা হচ্ছিল, ঠিক তখনই সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিখ্যাত স্লোগানটি উচ্চারণ করেন। এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

 

কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে সাবেক মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, আতিকুল ইসলাম এবং পলককে এ দিন আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

আদালতে পলকের প্রশ্ন ও গ্রেপ্তার দেখানো

আদালতে দাঁড়িয়ে পলক বিচারকের কাছে তিনটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন রাখেন। তিনি জানতে চান, ঘটনার তারিখ কী, তিনি মামলার কত নম্বর আসামি এবং কেন তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তার এই প্রশ্ন আদালত কক্ষে এক আলাদা উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

 

মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আকতারুজ্জামান আদালতে জানান,

গত বছরের ১৯ জুলাই ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলার তদন্তে পলকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত জরুরি।

রাষ্ট্রপক্ষের এই যুক্তির ভিত্তিতে আদালত পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

 

কিরণের রিমান্ড ও আতিকুলের গ্রেপ্তার

একই দিনে সাবেক মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ ও আতিকুল ইসলামের বিষয়েও আদালত শুনানি করেন। উত্তরা পূর্ব থানার উপপরিদর্শক মো. নাজমুল সাকীব কিরণের ৭ দিনের রিমান্ড এবং আতিকুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে হত্যার চেষ্টা করেছেন। আদালত কিরণের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং আতিকুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করেন।

 

মামলার পেছনের ঘটনা

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ জুলাই আন্দোলন চলাকালে তিনি গাবতলী থেকে ভাড়া বাসায় ফিরছিলেন। চাঁদ উদ্যানের হোসেন মার্কেট এলাকায় পৌঁছালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং মারা যান। পরের দিন ভোরে তার মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের মা রীনা বেগম পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।

 

অন্যদিকে, ইশতিয়াক মাহমুদ হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কিরণ ও আতিকুল ইসলাম দাঙ্গা সৃষ্টি করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেন।

 

সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা

© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Share
Scroll to Top