হোম / আন্তর্জাতিক / ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে দমননীতি অব্যাহত: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে হাসপাতালের মাজার রাতারাতি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে দমননীতি অব্যাহত: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে হাসপাতালের মাজার রাতারাতি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর দমনমূলক আচরণের আরেকটি চিত্র সামনে এলো। উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন শহরের দুন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চত্বরে থাকা একটি পুরনো মাজার শুক্রবার গভীর রাতে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভেঙে ফেলা হয়েছে।

দেনাদুন পৌর কর্পোরেশনের কমিশনার নমামি বনসল জানান, মাজারটি হাসপাতালের নির্ধারিত জমিতে ছিল এবং এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন পোর্টালে অভিযোগ জমা পড়েছিল। এর আগেও ২১-২২ এপ্রিল রাতে উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে সাঈদ মাসুম শাহ মিয়াঁর দশকের পুরনো মাজার ভেঙে ফেলা হয়েছিল, যেটি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দুন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চার মাস আগে স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগের পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করে এবং মাজারটির কোনো বৈধ নথি না থাকায় সেটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রোগী এবং এলাকাবাসীরা মাজারটিতে নিয়মিত যেতেন।

প্রশাসনের এই মধ্যরাতের অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কর্মকর্তারা কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে, কংগ্রেস নেতা সূর্যকান্ত ধসমানা অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সরকার পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসা ও মাজার ভেঙে হিন্দু-মুসলিম বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “এই মাজারটি বহু বছর ধরে ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। বৈধ নাকি অবৈধ, সেটার উত্তর ওয়াকফ বোর্ডের কাছ থেকেই আসা উচিত। কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট – তারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়।”

বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, ‘দেবভূমির’ চরিত্র বদলানোর কোনো ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপির মিডিয়া ইনচার্জ মনবীর সিং চৌহান বলেন, “৬০০-রও বেশি অবৈধ ধর্মীয় স্থাপনা ও মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

ভারতে ক্রমাগতভাবে মুসলিম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর এই ধরনের অভিযানের ঘটনাগুলি প্রমাণ করে যে, দেশটিতে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য এবং দমননীতি দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে।

Share
Scroll to Top