গুয়েতেমালা সিটি, ৩০ মে:
গুয়েতেমালার একটি শীর্ষ আদালত ১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে ছয়জন আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের দায়ে তিনজন সাবেক প্যারামিলিটারি সদস্যকে প্রত্যেককে ৪০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে। শুক্রবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষিত হয়।
এই মামলাটি দেশটির গৃহযুদ্ধের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সময়ের ঘটনা ঘিরে, যেখানে অভিযুক্তরা সিভিল সেল্ফ-ডিফেন্স প্যাট্রোল নামে পরিচিত সেনা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন। চার মাস ধরে চলা এই বিচারে প্রসিকিউশন ১৬০টির বেশি প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করে।
ভুক্তভোগী মায়া আচি নারী পাউলিনা ইক্সপাতা আদালতে বলেন, “রাতের বেলা সেনারা এসে আমাকে মাটিতে ফেলে ধর্ষণ করে। পুরো রাত এভাবেই কেটেছে।” তিনি জানান, ওই প্যাট্রোল বাহিনী তাকে টানা ২৫ দিন ধরে বন্দি করে রেখেছিল।
বিচারক মারিয়া ইউজেনিয়া কাস্তেয়ানোস বলেন, “নারীরা অপরাধীদের চিনতে পেরেছেন, তারা ঘটনাস্থলও চিহ্নিত করেছেন। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।”
এই মামলাটি ‘মায়া আচি’ নামে পরিচিত ধর্ষণ মামলার দ্বিতীয় ধাপ। এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৩৬ জন নারী ভুক্তভোগী সেনাবাহিনী, সামরিক কমিশনার ও প্যাট্রোল সদস্যদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রথম মামলার রায়ে পাঁচজন প্যাট্রোল সদস্যকে ৩০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা এখনো কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে ২০১৬ সালে, সেপুর সারকো সামরিক ঘাঁটিতে কেকচি সম্প্রদায়ের ১৫ নারীকে যৌনদাসী হিসেবে আটকে রাখার দায়ে দুই সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে মোট ৩৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল গুয়েতেমালার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধকালীন ধর্ষণের দায়ে সামরিক কর্মকর্তাদের শাস্তি।
আদালত একটি ক্ষতিপূরণ কর্মসূচিরও আদেশ দিয়েছিল, তবে সেই কর্মসূচির বাস্তবায়নে এখনও অগ্রগতি খুবই সীমিত বলে জানা গেছে।
Source: The Continental Herald