নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর, ২০২৫
বাংলাদেশে আবারও প্রকাশ পেল নৃশংস অমানবিকতা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আত্মহত্যা করা এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ডোমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সমাজজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনা গণমানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে এবং আবারও প্রশ্ন তুলেছে নিরাপত্তা ও মানবিকতার অবস্থান নিয়ে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ডোমের নাম আবু সাইদ (১৯)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার খন্দকপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে এবং হালুয়াঘাট থানায় মরদেহ পরিবহনের কাজ করতেন।
গত রবিবার রাতে হালুয়াঘাট উপজেলার ২০ বছর বয়সী এক তরুণী ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। পরদিন সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আনা হয়।
অভিযুক্তের ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ড
পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দুপুরের দিকে আবু সাইদ মরদেহ মর্গে রেখে চাবি হস্তান্তর করে বেরিয়ে যান। কিন্তু আধাঘণ্টা পর তিনি আবার ফিরে এসে চাবি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মৃত তরুণীকে ধর্ষণের পর মর্গেই ঘুমিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে কর্তব্যরত অন্য ডোম মর্গের ভেতর অন্ধকার দেখে সন্দেহ হলে ডাক্তারকে খবর দেন। পরে ডাক্তার এসে বিষয়টি তদন্ত করে ধর্ষণের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
খবর পেয়ে হালুয়াঘাট থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু সাইদ ও তার সহযোগীকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে আবু সাইদ অপরাধ স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় হালুয়াঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে উদ্বেগ
ময়মনসিংহে মর্গে তরুণী ধর্ষণ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়ঙ্কর প্রতিচ্ছবি। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতাল ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত