হোম / আন্তর্জাতিক / ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির কারাদণ্ড

ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট সারকোজির কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের কোনো প্রেসিডেন্টকে কারাগারে যেতে হচ্ছে। তাই ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সারকোজির কারাদণ্ড দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির কাছ থেকে অবৈধ নির্বাচনি তহবিল নেওয়ার অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন তিনি। এই রায় শুধু ফ্রান্স নয়, পুরো ইউরোপীয় রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

 

 অভিযোগ ও রায়ের পটভূমি

 

২০০৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের সময় সারকোজি গাদ্দাফির কাছ থেকে কোটি ইউরো অর্থ নিয়েছিলেন বলে দীর্ঘ তদন্তে প্রমাণ পায় ফরাসি আদালত। আদালতের মতে, এই অবৈধ তহবিল তার প্রচারণায় ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ফরাসি আইনে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধের শামিল।

 

২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া রায়ে আদালত জানান, রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে থেকেও সারকোজি নৈতিক ও আইনি সীমা লঙ্ঘন করেছেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন।

 

সারকোজির প্রতিক্রিয়া ও জনগণের প্রতিক্রিয়া

 

রায় ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারকোজি লেখেন, “আমি নির্দোষ। সত্য একদিন জয়ী হবেই।”

তবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি প্যারিসের লা সান্তে কারাগারে প্রবেশ করেন। কারাগারের বাইরে শত শত সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। তার ছেলে পিয়েরে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু ভালোবাসার বার্তা দিন।”

 

কারাগারের নিরাপত্তা ও অবস্থান

 

লা সান্তে কারাগারে সারকোজিকে একটি পৃথক ৯ বর্গমিটারের সেলে রাখা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে। একই কারাগারে সন্ত্রাসী ও মাদক পাচার মামলার সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরাও রয়েছে।

 

ইতিহাসে প্রথম এমন নজির

 

১৯৪৫ সালে নাৎসিদের সহযোগিতার অভিযোগে ফিলিপ পেতাঁ ও ১৭৯৩ সালে রাজা ষোড়শ লুইকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এরপর এই প্রথম কোনো ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান কারাগারে গেছেন। ফলে এই রায় দেশটির রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

 

সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা

© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Share
Scroll to Top