হোম / আন্তর্জাতিক / মানবিক সহায়তা বন্ধ, লেবাননে সিরিয়ান শরণার্থীদের দুর্বিষহ দিনরাত
No milk, no diapers: US aid cuts hit Syrian refugees in Lebanon

মানবিক সহায়তা বন্ধ, লেবাননে সিরিয়ান শরণার্থীদের দুর্বিষহ দিনরাত

ক্তরাষ্ট্রের ইউএসএইড (USAID) সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে লেবাননে বসবাসরত লাখো সিরিয়ান শরণার্থীর উপর।
অর্থের অভাবে নবজাতকদের দুধের বদলে কর্ণফ্লাওয়ার আর পানির মিশ্রণ খাওয়াচ্ছেন মায়েরা, ডায়াপারের পরিবর্তে ব্যবহার করছেন প্লাস্টিকের ব্যাগ।

সিরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ২০ বছর বয়সী মা আমাল আল-মেরহি লেবাননের বেকা উপত্যকার বার এলিয়াসের একটি অস্থায়ী শিবিরে পরিবারসহ বাস করেন। তার ১০ মাস বয়সী যমজ কন্যাশিশুদের জন্য প্রতিদিন দুধ বা ডায়াপার জোগাড় করাও এখন বিলাসিতা।
“আপনি যদি আমার এক মেয়েকে দেখেন, বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে সে ১০ মাসের,” বললেন মেরহি, “সে এতটাই ছোট ও দুর্বল।”

২০১৩ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে পালিয়ে লেবানে আসা এই পরিবার ইউএনএইচসিআর (UNHCR)-এর নগদ সহায়তার উপর নির্ভর করত। কিন্তু এখন সেই সহায়তাও বন্ধ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত, সংকটে বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইউএসএইড বরাদ্দ স্থগিত হওয়ায় শুধু লেবানন নয়, চাড, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে ছাঁটাই এসেছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ফেব্রুয়ারিতে তাদের নগদ সহায়তা প্রোগ্রামে সিরিয়ান শরণার্থীদের সংখ্যা ৮ লাখ ৩০ হাজার থেকে কমিয়ে ৬ লাখ ৬০ হাজারে নামিয়েছে।

একইভাবে লেবানিজ নাগরিকদের সহায়তায় পরিচালিত নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কেটে মাত্র ৪০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বাস্তবতা আরও করুণ

লেবাননে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রমের বাজেটের মাত্র ১৪ শতাংশ তহবিলই এখনো জোগাড় হয়েছে। মার্চ পর্যন্ত সংস্থাটির বৈশ্বিক কর্মসূচির জন্য তহবিল রয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ।
শরণার্থী অধ্যুষিত এই দেশে প্রায় ১৫ লাখ সিরিয়ান বাস করে, যাদের অর্ধেকের বেশি ইউএনএইচসিআর-এর রেজিস্টারে নেই।

ইউএনএইচসিআর-এর লেবানন প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইজন বলেন, “পূর্বের মতো দ্রুত ও সম্পূর্ণ মানবিক সহায়তা দেওয়া আমাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়।”

বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের মুখে শরণার্থীরা

অর্থের অভাবে অনেক শরণার্থী ঋণে জর্জরিত। অনেকেই সন্তানদের কাজে নামাতে বাধ্য হচ্ছেন, কেউ কেউ হয়তো যৌন বাণিজ্যেও জড়াতে পারেন, বলছে ইউএনএইচসিআর।
৫০ বছর বয়সী ইসা ইদ্রিস জানান, ফেব্রুয়ারির পর থেকে তিনি কোনো নগদ সহায়তা পাচ্ছেন না এবং এখন পর্যন্ত প্রায় $৩৭৫০ ঋণ করে খাওয়া-পরার খরচ চালাচ্ছেন।

শেষ আশ্রয় ভাঙছে

আমাল মেরহি বলেন, “আমরা বড়রা যেটা পাই তাই খাই। কিন্তু বাচ্চারা তো কিছু বুঝে না। তাদের জন্য তো একটু দুধও জোগাড় করতে পারছি না। এটা ওদের দোষ না।”

এই গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত মানুষের আর্তনাদ—যাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো এখনো বিশ্ব প্রস্তুত নয়।

#TheContinentalHerald | #SyriaCrisis | #LebanonRefugees | #USAID | #UNHCR | #HumanitarianCrisis

Share
Scroll to Top