নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৫, ১১:৫৯ PM
আগামীকাল শাহবাগে ছাত্র-জনতার বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হবে। এই সমাবেশে তিনটি মূল দাবি উপস্থাপন করা হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে।
কর্মসূচির বিস্তারিত
সময় ও স্থান: ১০ মে, বিকাল ৩টা, শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর সামনে
সারাদেশে: অন্যান্য জুলাই-স্পটগুলোতেও সমান্তরাল সমাবেশ
স্থায়িত্ব: গণ-অবস্থান কর্মসূচি (সময়সীমা অজানা)
তিন দফা দাবি সমূহ
১. আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে।
২. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করতে হবে।
৩. জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে।
তিন দফা দাবি বিশ্লেষণ
১. আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ
দাবিটি উত্থাপনের পিছনে সংগঠকদের যুক্তি:
- ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে ৪৯২টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা (আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)
- ২০২৩ সালে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দ্বারা ১৭৪টি হামলার তথ্য
- ২০২৪ জুলাই আন্দোলনে নির্বিচারে হত্যা
- তাদের শাসন আমলে নির্বিচারে গুম,খুন ও মামলার বৈধতা
২. দলগত বিচারের বিধান
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের দাবি
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি দলকেও দায়ী করার প্রস্তাব
৩. জুলাই ঘোষণাপত্র
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের দাবি
- বর্তমান সরকারকে ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে নতুন রোডম্যাপ
নিরাপত্তা প্রস্তুতি
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে:
- ১২টি পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হবে
- সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারি
- অতিরিক্ত ৩০০ র্যাব সদস্য প্রস্তুত
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি একটি বিবৃতিতে বলেছে:
“বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার সমর্থন করি, তবে সহিংসতা এড়ানোর আহ্বান জানাই”
এই সমাবেশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। সরকার ও আন্দোলনকারী পক্ষের মধ্যে সংলাপ না হলে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত