দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব জাতিসংঘের সদর দপ্তরে নতুন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে পতাকা উত্তোলনের পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসআদ আল-শায়বানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
আল-শায়বানি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার বোঝা এখন আমাদের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। সিরিয়ার অন্ধকার অতীত থেকে একটি শক্তিশালী ও শান্তিকামী রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
নিষেধাজ্ঞার ছায়ায় সিরিয়ার নতুন যাত্রা
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারাআর নেতৃত্বাধীন সরকার বারবার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, তবে অধিকাংশ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ রয়েছে, যা দেশটির পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
আল-শায়বানি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রু সংকট
নতুন সরকারকে অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি বাইরের আক্রমণেরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দারা, দামেস্ক, হামা ও হোমস অঞ্চলে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা এখনো সিরিয়ার কিছু ভূখণ্ড দখলে রেখেছে।
জাতিসংঘের বিশেষ দূত গেয়ার পেডারসেন বলেন, সিরিয়ার বর্তমান রূপান্তর প্রক্রিয়া অত্যন্ত নাজুক। তিনি দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সিরিয়ার শান্তি প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে, যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।”
পেডারসেন ইসরায়েলের বর্তমান পদক্ষেপকে “উস্কানিমূলক এবং অপ্রয়োজনীয়” বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, সিরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
একটি নতুন পতাকা, একটি নতুন অধ্যায়
পুরনো দুই তারকা বিশিষ্ট পতাকা সরিয়ে নতুন তিন তারকা সম্বলিত পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আসআদ শাসনের যুগের অবসান এবং নতুন একটি সিরিয়ার প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়েছে। পতাকা উত্তোলনের সময় আল-শায়বানি বলেন,
“এই পতাকা কেবল একটি প্রতীক নয়; এটি যুগের পর যুগের সহ্য করা কষ্টের সাক্ষ্য, পরিবর্তনের অঙ্গীকার।”
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সিরিয়ার নতুন সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।