আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
চার দশক ধরে তুরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ের সঙ্গে জড়িত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (PKK) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ করে সংগঠন বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণাকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
পিকেকে গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তুর্কি সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের ওপর হাজার হাজার হামলার জন্য দায়ী। এই সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০,০০০ মানুষ। সংগঠনটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্কসহ অনেক দেশের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত।
দীর্ঘ সংঘর্ষের অবসান
এক বিবৃতিতে পিকেকে জানিয়েছে, “আমাদের সশস্ত্র সংগ্রামের অধ্যায় শেষ। আমরা সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করছি এবং সংগঠন ভেঙে দিচ্ছি। আমরা রাজনৈতিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণে বিশ্বাসী।”
এই ঘোষণার পর থেকেই তুরস্কের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নিরাপত্তা খাতে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়েই এই সিদ্ধান্তকে ‘বহু কাঙ্ক্ষিত ও সময়োপযোগী’ বলে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি কেবল তুরস্ক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “পিকেকে’র অস্ত্র পরিহার এবং সংগঠন বিলুপ্তির ঘোষণা একটি সাহসী পদক্ষেপ যা স্থায়ী শান্তির পথে অগ্রগতি।”
পূর্ব ইতিহাস
১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত PKK প্রথমে কুর্দিদের জন্য স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি একাধিক সহিংস কার্যক্রম, অপহরণ, বোমা হামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে কুর্দি অঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক জোট ও সহাবস্থানের পথ খুলে যেতে পারে।
পরবর্তী ধাপ
পিকেকে নেতারা জানিয়েছেন, আগামী মাসগুলোতে ধাপে ধাপে সব সদস্যদের নিরস্ত্র করা হবে এবং পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল এই প্রক্রিয়া তদারকি করবে।