নিজস্ব প্রতিবেদক, The Continental Herald
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৫, ৬:৩১ PM
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের তিব্বত সফর দেশটির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। বুধবার তিনি লাসায় পৌঁছালে প্রায় ২০ হাজার কর্মকর্তা ও স্থানীয় মানুষ তাকে ফুলের তোড়া ও নৃত্যের মাধ্যমে বরণ করে নেয়। এ সফরটি মূলত চীনের শাসনের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
তিব্বত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিজস্ব বৌদ্ধতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চললেও ১৯৫১ সালে চীনা সেনারা অঞ্চলটি দখল করে নেয়। ১৯৬৫ সালে মাও সেতুং-এর নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে। এরপর থেকে রাজনৈতিক দমননীতি, সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ ও বহুসংখ্যক হান চীনের বসতি স্থাপন ঘটে।
শি জিনপিংয়ের বক্তব্য
লাসায় আয়োজিত জনসভায় শি জিনপিং একটি “আধুনিক সমাজতান্ত্রিক তিব্বত” গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তিব্বতকে ঐক্যবদ্ধ, সমৃদ্ধ, সভ্য, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে তিনি তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মকে সমাজতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
কৌশলগত গুরুত্ব
তিব্বতের ভৌগোলিক অবস্থান চীনের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলটি জলসম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস, যাকে বলা হয় “এশিয়ার পানির টাওয়ার”। চীনের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও এখানেই গড়ে তোলা হচ্ছে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
আধ্যাত্মিক বিতর্ক
তিব্বতের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা দালাই লামা বর্তমানে ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। চীন সরকার তার পুনর্জন্ম নির্বাচনের অধিকার দাবি করে আসছে। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনো তীব্র বিতর্কের বিষয়।
শি জিনপিংয়ের তিব্বত সফর শুধু চীনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, বরং ভারত-চীন সম্পর্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সফরের মাধ্যমে বেইজিং স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, তিব্বতের ওপর তাদের কর্তৃত্ব অটল থাকবে।
সত্য, স্বচ্ছ ও সাহসী সাংবাদিকতা
© The Continental Herald 2025 | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত