হোম / আন্তর্জাতিক / যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি, ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
us-toughest-sanctions-iran-tehran-warns-devastating-response-2026

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি, ‘ধ্বংসাত্মক’ জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬

ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে নতুন কোনো মার্কিন হুমকির মুখে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সহায়তা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। ওয়াশিংটনের নতুন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য ইরানের তেল বিক্রি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আরও সীমিত করে দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানো।

তবে মার্কিন হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, নতুন কোনো হুমকির জবাব হবে ‘ধ্বংসাত্মক’। তার দাবি, সামরিক, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে পরাজিত করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

চীনের ওপর বাড়ছে চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের হিসাবে, সমুদ্রপথে রপ্তানি করা ইরানি তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনছে চীন। এ কারণে বেইজিংকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে চীন বলেছে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা অন্যান্য দেশের ওপরও মার্কিন চাপ বাড়তে পারে। চীনের পাশাপাশি তুরস্ক, ইরাক, ওমান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

চাপে ইরানের অর্থনীতি

দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি চলমান যুদ্ধ ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার দরপতন, জ্বালানি সংকট এবং তেল রপ্তানিতে বাধার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথটিতে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এর আগে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সফল না হওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক চাপ সংঘাতকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

Share
Scroll to Top