হোম / বাংলাদেশ / অপরাধ ও আইন / মাছ দেওয়ার কথা বলে অনাথ কিশোরীকে ধর্ষণ, মামলা করায় হুমকিতে পরিবার | TCH News

মাছ দেওয়ার কথা বলে অনাথ কিশোরীকে ধর্ষণ, মামলা করায় হুমকিতে পরিবার | TCH News

সারাদেশ ডেস্ক | TCH News

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৬

 

মাছ দেওয়ার প্রলোভনে অনাথ কিশোরীকে ধর্ষণ, মামলা করায় বাড়ি ছাড়ার হুমকি

 

বাগেরহাটের মোংলায় মাছ দেওয়ার কথা বলে এক অনাথ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করায় এখন হুমকির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, মামলা প্রত্যাহার না করলে তাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।

 

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ওই কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর মামা সাংবাদিকদের জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামির স্বজনরা তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়

 

গত রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় একটি জলাশয়ে শাপলা তুলতে গিয়েছিলেন ওই কিশোরী। এ সময় সুমন শিকদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তি তাকে মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি মাছের ঘেরের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানেই তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার পর কিশোরীকে হুমকি দেওয়া হয় যে, কাউকে কিছু জানালে তার ক্ষতি হবে।

 

ভয়ে কয়েক দিন কারও কাছে ঘটনার কথা বলেননি কিশোরী। তবে শুক্রবার (২১ আগস্ট) তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মামী বিষয়টি জানতে চান। একপর্যায়ে কিশোরী তাঁর ওপর বেড়ে যাওয়া ঘটনার কথা খুলে বলেন। এরপর তার পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযুক্ত সুমন শিকদারকে গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে সোপর্দ করেছে।

 

ভুক্তভোগীর মামা জানান

 

ছোটবেলায় কিশোরীর বাবা মারা যাওয়ায় তিনি মা-বাবা ছাড়াই তাদের বাড়িতে বড় হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই আসামির পরিবারের লোকজন তাঁদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে এলাকায় থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

 

তিনি আরও বলেন, শনিবার দুপুরে হাসপাতালে ভাগ্নির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময় তার ছোট ভাই ফোনে জানান, আসামির চাচা আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের বাড়িতে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দিচ্ছে। এসময় অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মা ভয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে আশ্রয় নেন। মামলা তুলে না নিলে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে—এমন হুমকি দিয়ে তারা চলে গেছেন।

 

কান্নায় ভেঙে পড়ে মামা বলেন,

‘বাবা-মা হারানো এই শিশু যদি বিচার না পায়, তাহলে কোথায় যাবে?’

 

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে মামলার বাদী ও তার পরিবারকে হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনার কথা শুনিনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি। কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.

Share
Scroll to Top