হোম / অন্যান্য / ডোপ টেস্টে কোন মাদক কতদিন ধরা পড়ে? জানুন ইউরিন পরীক্ষার সময়সীমা

ডোপ টেস্টে কোন মাদক কতদিন ধরা পড়ে? জানুন ইউরিন পরীক্ষার সময়সীমা

স্বাস্থ্য ডেস্ক | TCH News

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬

 

ডোপ টেস্টে কোন মাদক কতদিন ধরা পড়ে? ইউরিন পরীক্ষার বিস্তারিত

 

মাদক শনাক্তকরণে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে ইউরিন বা প্রস্রাব পরীক্ষা অন্যতম। শরীরে মাদক প্রবেশের পর তা ভেঙে বিভিন্ন বিপাকজাত পদার্থে রূপান্তরিত হয়, যা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়। এই উপাদানগুলো শনাক্ত করেই সাধারণত ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়।

 

তবে একটি নির্দিষ্ট মাদক সেবনের কতদিন পর পর্যন্ত ইউরিন পরীক্ষায় ধরা পড়বে—এর কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। মাদকের ধরন, সেবনের পরিমাণ, ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সি, ব্যক্তির বিপাকক্রিয়া ও পরীক্ষার কাটঅফ মান—এই সবকিছুর ওপর শনাক্ত হওয়ার সময় নির্ভর করে।

 

ইয়াবা (মেথঅ্যামফিটামিন)

 

ইয়াবার প্রধান সক্রিয় উপাদান মেথঅ্যামফিটামিন সাধারণত ইউরিন পরীক্ষায় ২ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে। তবে নিয়মিত বা অতিরিক্ত সেবনে এই সময় ৫ থেকে ৭ দিন অথবা সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। পরীক্ষার কাটঅফ মান ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপরও সময়সীমা নির্ভরশীল।

 

গাঁজা (THC)

 

গাঁজার ক্ষেত্রে শনাক্ত হওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনশীল। মাঝেমধ্যে ব্যবহারে প্রায় ১ থেকে ৩ দিন, দৈনিক ব্যবহারে ৫ থেকে ১০ দিন এবং দীর্ঘদিনের নিয়মিত ব্যবহারে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত ইউরিন পরীক্ষায় শনাক্ত হতে পারে। গাঁজার প্রধান উপাদান THC শরীরের চর্বিতে জমা হতে পারে, যা এর বিপাকজাত পদার্থকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্রাবে থাকতে সহায়তা করে।

 

অ্যালকোহল

 

সাধারণ ইউরিন পরীক্ষায় অ্যালকোহল প্রায় ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা শনাক্ত হতে পারে। তবে অ্যালকোহল শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ EtG (ethyl glucuronide) পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। তাই সব ধরনের অ্যালকোহল পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।

 

হেরোইন ও অন্যান্য ওপিওয়েড

 

কোডিন ও মরফিনের মতো ওপিওয়েড সাধারণত ইউরিন পরীক্ষায় ১ থেকে ৩ দিন শনাক্ত হতে পারে। হেরোইনের ক্ষেত্রে সাধারণত ১ থেকে ২ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। হেরোইন দ্রুত ভেঙে বিভিন্ন পদার্থে রূপান্তরিত হয়, তাই কোন বিপাকজাত পদার্থ শনাক্ত করা হচ্ছে, সেটি ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ।

 

বেনজোডায়াজেপাইন

 

ঘুম, উদ্বেগ বা নির্দিষ্ট চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেনজোডায়াজেপাইনের শনাক্তকরণ সময় ওষুধের ধরনভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। সাধারণ চিকিৎসাগত ব্যবহারে প্রায় ৩ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত যেতে পারে। আবার দীর্ঘ-কার্যকর কিছু বেনজোডায়াজেপাইনের ভারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

কোকেইন

 

কোকেইন সাধারণত ইউরিন পরীক্ষায় ১ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হতে পারে। তবে বেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। ভারী ব্যবহারে ১০ থেকে ২২ দিন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনার তথ্যও রয়েছে।

 

ফেন্টানিল

 

ফেন্টানিলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সাধারণ ‘অপিয়েট’ স্ক্রিনে এটি সবসময় ধরা পড়ে না। নির্দিষ্টভাবে ফেন্টানিল শনাক্তের জন্য আলাদা পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ ব্যবহারে এটি প্রায় ১ থেকে ২ দিন শনাক্ত হতে পারে; ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী কয়েক দিন পর্যন্ত সময়সীমা বাড়তে পারে।

 

মেথাডোন ও বুপ্রেনরফিন

 

মেথাডোন সাধারণত ইউরিনে প্রায় ২ থেকে ১১ দিন শনাক্ত হতে পারে। বুপ্রেনরফিনের ক্ষেত্রে প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন সময়সীমার তথ্য রয়েছে। এসব ওষুধ সাধারণ ‘অপিয়েট’ স্ক্রিনে সবসময় ধরা পড়ে না; প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পরীক্ষা করতে হয়।

 

শনাক্তকরণকে প্রভাবিত করার কারণসমূহ

 

একই মাদক ব্যবহার করলেও বিভিন্ন ব্যক্তির পরীক্ষার ফল একই নাও হতে পারে। এর কারণগুলো হলো—

 

  • মাদকের পরিমাণ
  • ব্যবহারের ধরণ (একবার, মাঝেমধ্যে বা নিয়মিত)
  • মাদকের ধরন ও কার্যকারিতার মেয়াদ
  • ব্যক্তির বিপাকক্রিয়া
  • কিডনি ও লিভারের কার্যক্ষমতা
  • প্রস্রাবের ঘনত্ব ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় বিষয়
  • পরীক্ষায় ব্যবহৃত কাটঅফ মান
  • প্রাথমিক স্ক্রিনিং নাকি ল্যাবরেটরি কনফারমেশন পরীক্ষা

 

সকল মাদক কি এক পরীক্ষায় ধরা পড়ে?

 

না। সাধারণ মাদক পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কিছু মাদক বা মাদকগোষ্ঠী পরীক্ষা করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট মাদক শনাক্ত করতে অনেক সময় আলাদা পরীক্ষা প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রাথমিক পরীক্ষায় কখনো ভুল ফল আসতে পারে এবং কিছু বৈধ ওষুধও নির্দিষ্ট পরীক্ষায় মাদকের মতো ফল দিতে পারে। তাই অপ্রত্যাশিত ফলাফল এলে আরও নির্ভুল পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়।

 

প্রস্রাব, রক্ত ও চুলের পরীক্ষার মধ্যে পার্থক্য

 

মাদক শনাক্তে প্রস্রাব ছাড়াও রক্ত, লালা ও চুলের নমুনা ব্যবহার করা হয়। প্রস্রাব পরীক্ষা সাধারণত সাম্প্রতিক মাদক গ্রহণ শনাক্তে বেশি ব্যবহৃত হয়। রক্ত পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে আরও সাম্প্রতিক গ্রহণের তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে চুলের পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় আগের মাদক গ্রহণের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব—মাথার চুলের ক্ষেত্রে প্রায় তিন মাস পর্যন্ত আগের মাদক গ্রহণের তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

 

The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.

Share
Scroll to Top