হোম / আন্তর্জাতিক / ‘ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না’, জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান
pezeshkian-says-iran-cannot-be-forced-to-surrender-nuclear-energy-not-bomb-unga-2026

‘ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না’, জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইরানকে সামরিক চাপ দিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশের প্রয়োজন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি, পারমাণবিক বোমা নয়।

বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান তার অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাবে না এবং চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

ইরানের প্রতিপক্ষদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা ইতোমধ্যে বুঝতে পেরেছে যে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না।

পেজেশকিয়ানের দাবি, ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি এবং আলোচনার টেবিলের প্রতি বরাবরই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছে। তবে চলমান সংঘাত ও তেহরানের আঞ্চলিক ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের অবস্থান এর বিপরীত। তারা ইরানের কর্মকাণ্ডকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি তার দেশের উন্নয়নের একটি অংশ এবং এই প্রযুক্তি শুধু কয়েকটি দেশের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না।

তার ভাষায়, ইরানের অবস্থান পরিষ্কার: পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো বিধিনিষেধও নয়।

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়। ইরান বলছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার অন্যতম ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।

একদিন আগেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন এবং চুক্তি না হলে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন নেই।

এমন পরিস্থিতিতে পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘের ভাষণকে তেহরানের পক্ষ থেকে একই সঙ্গে প্রতিরোধ ও আলোচনার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সামরিক চাপের মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না, অন্যদিকে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ করেননি।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও একই ভাষণে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহারের জন্য অস্ত্র পরিবহনের পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে অন্য দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের সুবিধা নেবে অথচ ইরান নিজেই সেখানে অবাধ নৌ চলাচলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকবে, এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং চলমান যুদ্ধ নিয়ে পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে।

 

হ্যাশট্যাগ:
#ইরান #পেজেশকিয়ান #জাতিসংঘ #জাতিসংঘসাধারণপরিষদ #পারমাণবিককর্মসূচি #যুক্তরাষ্ট্র #হরমুজপ্রণালি #মধ্যপ্রাচ্য #TCHNews
#Iran #Pezeshkian #UNGA #UnitedNations #IranNuclearProgram #UnitedStates #StraitOfHormuz #MiddleEast #TCHNews

Share
Scroll to Top