নির্বাচনে ব্যয়ে শীর্ষে জামায়াত, ২৮ দলের দলীয় খরচ শূন্য
রাজনীতি ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, সংসদের প্রধান বিরোধী দলটি ৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭২ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করা বিএনপির ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নির্বাচন কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ৪৯টি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে। গত নির্বাচনে মোট ৫০টি দল অংশ নিলেও একটি দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব জমা দিতে পারেনি। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দলভিত্তিক মোট ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হলেও কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
বিএনপির চেয়ে ৬৮ আসন কম হয়েও ব্যয় বেশি জামায়াতের
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপি ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে মোট ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ২২৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে—যা বিএনপির চেয়ে ৬৮ আসন কম। কিন্তু তারপরও দলটির মোট ব্যয় বিএনপির চেয়ে প্রায় ৭০ লাখ টাকা বেশি।
প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী দিয়ে দলীয় ব্যয় দেখিয়েছে ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ টাকা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩ জন প্রার্থী দিয়ে ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭১ টাকা ব্যয় করেছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৬৫ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় করেছে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৩ টাকা।
২৮ দলের ব্যয় শূন্য
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২৮টি রাজনৈতিক দল দলীয় নির্বাচনি ব্যয় শূন্য দেখিয়েছে। এই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে—লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি
অন্যান্য দলের ব্যয়
জাতীয় পার্টি (জেপি) ১০ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় দেখিয়েছে ১৮ হাজার ৮৭৫ টাকা। গণতন্ত্রী পার্টি একজন প্রার্থী দিয়ে ১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ১৯২ জন প্রার্থী দিয়ে ব্যয় দেখিয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ২৬ জন প্রার্থী দিয়ে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৩৯ জন প্রার্থী দিয়ে ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১৯ জন প্রার্থী দিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা ব্যয় করেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩ জন প্রার্থী দিয়ে ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ২৬ জন প্রার্থী দিয়ে ১ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। খেলাফত মজলিসের একটি অংশ ৩৪ জন এবং আরেক অংশ ২১ জন প্রার্থী দিয়ে মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) ৬ জন প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৩ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ১৯ জন প্রার্থী দিয়ে ২ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ টাকা ব্যয় করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ১১ জন প্রার্থী দিয়ে ২ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩০ জন প্রার্থী দিয়ে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭১০ টাকা ব্যয় করেছে। গণঅধিকার পরিষদ ৯০ জন প্রার্থী দিয়ে ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) ২৯ জন প্রার্থী দিয়ে ১ লাখ ৯ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। আমজনতার দল ১৫ জন প্রার্থী দিয়ে ৪২ হাজার ৫২০ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২৮ জন প্রার্থী দিয়ে ২০ লাখ ১৬ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় করেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর যেসব দল আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে, সেগুলো এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.