আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২৬
ভারতের উত্তর প্রদেশে মুসলিম নেতা আজম খানের প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ভবন ভেঙে ফেলার সরকারি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন।
উত্তর প্রদেশের রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) দাবি করেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টিই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে ১৫ জুলাই জারি করা এক আদেশে ৫ আগস্টের মধ্যে ভবনগুলো অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা না মানলে প্রশাসন নিজেই ভবনগুলো গুঁড়িয়ে দেবে এবং এর ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আদায় করবে বলে জানানো হয়।
তবে সোমবার প্রশাসন একটি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জহিরউদ্দিন জানিয়েছেন, এটি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ আদেশ বাতিল নয়; বরং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভাঙার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এখন আদালতের মাধ্যমে পুরো উচ্ছেদ আদেশ বাতিলের চেষ্টা করছে।
প্রায় ২৫০ একর আয়তনের এই ক্যাম্পাসে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। উচ্ছেদের নির্দেশ জারির পর থেকে শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়টি ধ্বংস হলে হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন সমাজবাদী পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা আজম খান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত। সমালোচকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে রাজ্য প্রশাসন বলছে, এটি সম্পূর্ণভাবে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের শিক্ষা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সরকারের কাছে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
#হ্যাশট্যাগ
#ভারত #উত্তরপ্রদেশ #আজমখান #মোহাম্মদআলীজওহরবিশ্ববিদ্যালয় #শিক্ষা #বিক্ষোভ #TCHNews