অর্থনীতি ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬
ভারত থেকে পচা চাল আমদানির চালান আটকে দিল খাদ্য বিভাগ
চট্টগ্রাম বন্দরে ভারত থেকে পচা চাল আমদানির একটি পুরো চালান আটকে দিয়েছে খাদ্য বিভাগ। নিম্নমানের ও পচা সিদ্ধ চালের এই চালান ঘিরে বিভাগে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
পুরো চালান নিয়ে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সাড়ে ১১ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। ভারত থেকে পচা চাল আমদানির এই চালানটি সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় আনা হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে নমুনা পরীক্ষায় চাল ‘খাবার উপযোগী’ বলে প্রতিবেদন আসে। এরপর খালাসের অনুমতি দেয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে প্রায় ৩ হাজার মেট্রিক টন চাল বিভিন্ন স্টোরেজ ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
চালের মান নিয়ে আপত্তি ও খালাস বন্ধ
কিন্তু গত শনিবার তেজগাঁও ও হালিশহর সিএসডির কর্মকর্তারা চাল গ্রহণ করতে গিয়ে বিস্মিত হন। তারা দেখেন, চাল অত্যন্ত নিম্নমানের, পুরোনো এবং অনেকটাই খাবার অনুপযোগী।
বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিবহণ ঠিকাদাররাও চালের নিম্নমানের কারণে পরিবহণ কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
অভিযোগ উঠেছে, পরিকল্পিতভাবে জাহাজের কয়েকটি স্তরের মাঝামাঝি অংশে নিম্নমানের চাল রাখা হয়েছিল। এতে নমুনা সংগ্রহের সময় তা ধরা পড়েনি। এখনও জাহাজে পড়ে আছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেট্রিক টন চাল।
‘বন্ধুত্বের’ দোহাই দিয়ে নিম্নমানের চাল আমদানির অভিযোগ
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা যখন চালের প্রকৃত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হন, তখন শিপিং লাইন কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা চালায়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের চাল গ্রহণ করা হবে না।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জিএম ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার, বিধিবহির্ভূত বা নিম্নমানের কোনো চাল গ্রহণ করা হবে না।’
অন্যদিকে সেভেন সী’স শিপিং লাইনের কর্ণধার আলী আকবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাল কিছুটা লালচে হলেও তা পচা নয়।
পূর্ববর্তী বিতর্ক ও তদন্ত
এ ঘটনা আবারও সামনে এনেছে খাদ্য আমদানিকে কেন্দ্র করে অতীতের বিতর্ক। গম আমদানি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হয়েছেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এছাড়া তৎকালীন খাদ্য সচিব ইসমাইল হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাধন চন্দ্র মজুমদারের আমলে যে চক্রটি নিম্নমানের গম আমদানি করেছিল, সেটিই এখনও সক্রিয় রয়েছে। ভারত থেকে পচা চাল আমদানির এই চালানের সঙ্গেও সেই চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন অনেকে।
বর্তমানে খাদ্য বিভাগের একটি বিশেষ টিম জাহাজে অবস্থান করে বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ভারত থেকে পচা চাল আমদানির এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
#TheContinentalHerald