হোম / বাংলাদেশ / জাতীয় সংবাদ / চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা, চাকরি হারালেন প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক

চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ ঘোষণা, চাকরি হারালেন প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক

জাতীয় ডেস্ক | TCH News

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২৬

 

চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, কর্মহীন ৬ হাজার শ্রমিক

 

দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক সঙ্কট ও কাঁচামালের অভাবে চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের অন্তত ১১টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

 

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে কারখানাগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

 

হঠাৎ ছাঁটাইয়ে শ্রমিকদের অসন্তোষ

 

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে নোটিশ বোর্ডে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা টাঙানো হয়। সেখানে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

 

আকস্মিক এই ছাঁটাইয়ের খবরে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকে না জানিয়েই চাকরি হারানোর খবর পান বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

কোন কারখানাগুলো বন্ধ হলো?

 

এস আলম গ্রুপের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে—এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, একটি পশুখাদ্য কারখানা এবং আরও কয়েকটি শিল্প ইউনিট। তবে গ্রুপটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখনও চালু রয়েছে।

 

কর্ণফুলীতে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ৫০০ জন এবং অস্থায়ী কর্মী প্রায় ২০০ জন। অন্য কারখানাগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন।

 

আর্থিক সঙ্কট ও কাঁচামাল সংকটের প্রভাব

 

কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার হাসমত আলী জানান, এই কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়, বরং প্রায় দুই বছরের পরিচালনগত সমস্যার চূড়ান্ত পরিণতি। গত বছরের আগস্ট থেকে কোম্পানির সম্পত্তি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসার পর থেকেই সঙ্কট শুরু হয়।

 

তিনি বলেন, ‘গুদামে যেটুকু কাঁচামাল অবশিষ্ট ছিল, তা দিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। এখন সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে।’

 

তিনি আরও জানান, উৎপাদন সীমিত বা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও গ্রুপটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের মজুরি দিয়েছে। কয়েক মাস আগে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মীকে প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরির মেয়াদের ওপর নির্ভর করে কেউ ৭ লাখ, কেউ ১৫ লাখ, আবার কেউ ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পেয়েছেন।

 

পাঁচ আগস্টের পর থেকে সংকট বাড়ে

 

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকের সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যায় এবং কাঁচামাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। ফলে একের পর এক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর আগেও কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করা হলেও কার্যক্রম একেবারে বন্ধ ছিল না। তবে এবার সবগুলো প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

শ্রমিকরা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার যদি কোম্পানিকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার সুযোগ করে দেয়, তবে উৎপাদন আবার শুরু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এস আলম গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.

Share
Scroll to Top