শেখ হাসিনার দিল্লি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২৬
পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বেও।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই।
ব্রিকস আমন্ত্রণ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসছে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
গত ১৪ জুলাই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির পর ওই আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ হয়ে গেছে।
হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিক্রিয়া
দিল্লিতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে অসন্তোষ জানিয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে ঢাকা নেতিবাচকভাবে দেখেছে।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল পরে জানিয়েছেন, ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে—ভারত সরকার সেগুলো অনুমোদন করে না। ঢাকার কূটনৈতিক মহল এই বক্তব্যকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা যেন দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সংকটে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লি উভয় পক্ষই যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কূটনৈতিক বার্তা
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর না করা হলে সেটি কেবল একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনুপস্থিতি হিসেবে দেখা হবে না; বরং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার আগে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখন সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পারস্পরিক সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সতর্কতা দেখানোই দুই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.