আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষত কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে নেপাল। সাম্প্রতিক এই দুর্যোগে দেশটির বিপুল অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।
নেপাল সরকারের প্রাথমিক হিসাবে, দুর্যোগে সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশটির বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। দেশটির প্রায় ৪ হাজার ২০০ মেগাওয়াট স্থাপিত বিদ্যুৎ সক্ষমতার মধ্যে একটি নদী অববাহিকাতেই প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্মাণাধীন আরও প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি কৃষি, পর্যটন, বাণিজ্য, ব্যাংক ও বীমা খাতেও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে CNN-কে বলেছেন, সাম্প্রতিক ইতিহাসে হিমালয় অঞ্চলে এমন বিপর্যয় নজিরবিহীন। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং দেশের মানুষের প্রচেষ্টায় নেপাল এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।
পুনর্গঠন ও অর্থনীতি সচল রাখতে নেপাল সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীদার দেশের সহায়তা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলে যাওয়ার মতো পরিবর্তন এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। কোনো একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা কঠিন হলেও উষ্ণায়নের কারণে পাহাড়ি ঢাল ও হিমবাহের অস্থিতিশীলতা বাড়ছে।
এবারের বিপর্যয় নেপালের সামনে শুধু উদ্ধার ও পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জই তৈরি করেনি, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এনেছে।