জাতীয় ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এক প্রবাসী পরিবারের একাকী সদস্যের পচা-গলা লাশ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
একা থাকতেন বাড়িতে
আবদুর রহমান (৬৫) নামের ওই বৃদ্ধ চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন ছেলে সবাই থাকেন দুবাইয়ে। তিনি প্রায় দেড় বছর আগে দেশে ফিরে আসেন এবং তারপর আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরে যাননি। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে চন্দনাইশের বাড়িতে তাঁর মেজ ছেলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পরিবারের সবাই দুবাইয়ে ফিরে গেলেও আবদুর রহমান থেকে যান।
কীভাবে জানা গেল মৃত্যুর খবর
গত সোমবার দুবাই থেকে ছেলেরা বাবার ফোনে সাড়া পাচ্ছিলেন না। পরে ওই দিন বিকেলে আবদুর রহমানের ছোট ছেলের স্ত্রী তাঁর বাড়িতে খোঁজ নিতে আসেন। ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা খোলা হয়। তখন ভেতরে খাটের ওপর তাঁর পচা-গলা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিন-চার দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহে পচন ধরায় নানা স্থানে পোকা ধরে এবং তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। চেহারাও বিকৃত হয়ে যায়।
প্রতিবেশী ও পুলিশের বক্তব্য
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে শেষবার বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে দেখা গিয়েছিল। এরপর আর কেউ তাঁকে বাইরে দেখেননি।
চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিটন মিয়া জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশের চোখে-মুখে পোকা এবং দুই হাতের চামড়া খুলে পড়া অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে স্থানীয় গাউছিয়া কমিটির মানবিক টিমের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোলাইমান ফারুকী জানান, আবদুর রহমান এলাকায় একা চলাফেরা করতেন এবং সবার সঙ্গে তেমন মেলামেশা ছিল না।
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা
আবদুর রহমানের স্ত্রী দুবাইয়ে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর বড় ছেলের স্ত্রীও সেখানে থাকেন। মেজ ছেলের স্ত্রী মাঝেমধ্যে দোহাজারী থেকে এসে শ্বশুরকে দেখে যেতেন। পুলিশ জানিয়েছে, স্ট্রোকের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কিনা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। চন্দনাইশে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধারের এই ঘটনা প্রবাসী পরিবারের সদস্যদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
#TheContinentalHerald