হোম / বাংলাদেশ / উন্নয়ন ও অবকাঠামো / দক্ষিণাঞ্চলকে সংযুক্ত করতে পিপিপি মডেলে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের ২ সেতু নির্মাণ করবে জাপান

দক্ষিণাঞ্চলকে সংযুক্ত করতে পিপিপি মডেলে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের ২ সেতু নির্মাণ করবে জাপান

ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখাল জাপানি প্রতিষ্ঠান মিয়াগাওয়া

 

অর্থনীতি ডেস্ক | TCH News

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬

 

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে দুটি বড় সেতু নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপানের একটি শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় ভোলা-বরিশাল ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে মিয়াগাওয়া কেনসেটসু কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।

 

এই দুটি মেগাপ্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৩.৪৪ বিলিয়ন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণের জেলাগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ অনেকটাই সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

 

যৌথ প্ল্যাটফর্ম সভায় প্রকল্প চূড়ান্ত

 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত অষ্টম বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্ম সভায় এই উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিকতা দেওয়া হয়। সভায় সেতু দুটি নতুন প্রকল্প হিসেবে যৌথ প্ল্যাটফর্মের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর আগে ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় (এমএলআইটি) মিয়াগাওয়া কেনসেটসুকে নির্বাচন করেছিল।

 

সভায় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিউরুল ইসলাম খান। জাপানি প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এবং এমএলআইটির সহকারী উপমন্ত্রী ফুজিতা মাসাকুনি।

 

নির্মাণপদ্ধতি ও ভূমি অধিগ্রহণ

 

পিপিপি মডেলে বাস্তবায়িত হলে ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার। প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে অথবা অন্যান্য জাপানি কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে। চূড়ান্ত চুক্তির আগে ট্রানজিশন পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) করা হবে। এরপর সরকার রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) ইস্যু করবে এবং প্রস্তাব মূল্যায়নের ভিত্তিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি সই হবে।

 

বাংলাদেশে মিয়াগাওয়ার স্থানীয় অংশীদার হিসেবে রয়েছে স্ট্যালিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ জানান, এই সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

 

ভোলা-বরিশাল সেতু: দেশের দীর্ঘতম সেতু হতে যাচ্ছে

 

দুটি প্রকল্পের মধ্যে ভোলা-বরিশাল সেতুই সবচেয়ে বড়। ১০.৮৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এটি নির্মিত হলে দ্বীপজেলা ভোলার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী সড়কযোগাযোগ স্থাপিত হবে।

 

২০২৪ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় দেখা গেছে, আগামী ৩০ বছরে সেতুটি দেশের জিডিপিতে ০.৮৬ শতাংশ অবদান রাখতে পারে। এছাড়া ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও এই সেতুপথে সহজ হবে। ২০৩৩ সালের মধ্যে নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

 

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু: ফেরি নির্ভরতা কমাবে

 

মেঘনা নদীর ওপর ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। শরীয়তপুরের সখিপুর ও চাঁদপুরের হরিণা ফেরিঘাটের মধ্যে এটি নির্মিত হবে। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলা ও দক্ষিণ-পূর্বের ১১ জেলা সরাসরি যুক্ত হবে। খুলনা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমে যাবে এবং ঢাকার ওপর দিয়ে যানবাহনের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ২০৩২ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতুতেও জাপানের আগ্রহ

 

একই বৈঠকে বাংলাদেশ ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্পও উপস্থাপন করলে জাপানি প্রতিনিধি দল তা নিয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে। মেঘনা নদীর ওপর এই সেতু নির্মিত হলে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ হবে।

 

অন্যান্য প্রস্তাব ও অগ্রগতি পর্যালোচনা

 

সভায় জাপান চট্টগ্রামে একটি ওয়েস্ট-টু-এনার্জি প্রকল্প অন্তর্ভুক্তিরও প্রস্তাব দেয়। এছাড়া জাপানি কারিগরি সহায়তায় পুরোনো রেলসেতু আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

 

পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় চলমান অন্যান্য প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে কমলাপুর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব, হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, আউটার রিং রোড এবং স্থানীয় সেতু উন্নয়ন প্রকল্প।

 

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সভার সমাপনী বক্তব্যে এই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ সরকারের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং উভয় দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়।

 

The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.

Share
Scroll to Top