আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬
আইসিসি পরোয়ানা নিয়ে নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি: বিদেশে গ্রেপ্তার ঠেকাতে স্পেশাল ফোর্স তৈরি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, বিদেশের মাটিতে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো চেষ্টা চালানো হলে ইসরায়েলের বিশেষ বাহিনী (স্পেশাল ফোর্স) তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আহ্বান জানানোর প্রেক্ষাপটে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু
প্রয়াত মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন নেতানিয়াহু। সেখানেই ফক্স নিউজের শন হ্যানিটির সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি আইসিসির সদস্য দেশে জরুরি অবতরণের মতো পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন। তবে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বলেন, ইসরায়েলের স্পেশাল ফোর্স রয়েছে এবং তিনি নিজেও পাঁচ বছর এই বাহিনীতে কাজ করেছেন।
উপস্থাপক ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ‘শক্ত’ বলে মন্তব্য করলে নেতানিয়াহু হাস্যোজ্জ্বল হয়ে বলেন, তাদের নতুন একটি কাজ দেওয়া যেতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেন, নিউইয়র্কে তার নির্ধারিত সফর বাতিলের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং তিনি সেখানে গিয়ে ‘ঘৃণা ছড়ানো’ নির্বাচিত কর্মকর্তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্য বলবেন।
নিউইয়র্ক মেয়রের গ্রেপ্তারের আহ্বান
এর আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। মামদানি বলেন, নেতানিয়াহুর উপযুক্ত স্থান হলো হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তিনি ফেডারেল সরকারকে এই পরোয়ানা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধের সময় ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা’ এবং ‘অনাহারকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার’ করার অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এছাড়া ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত ‘হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নেতানিয়াহু অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ বলে দাবি করেছেন।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা
যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য না হওয়ায় আইনত নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে মেয়র মামদানি ফেডারেল সরকারের কাছে এ বিষয়ে পদক্ষেপ চান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন তাকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।
ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, নেতানিয়াহু ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন এবং কেবল তাদেরই গ্রেপ্তার করা উচিত যারা ইরানকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন এই পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো সুযোগ নেই।
নিউইয়র্ক মেয়রের সমালোচনায় নেতানিয়াহু
নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির সমালোচনা করে বলেন, তিনি নিউইয়র্কের মানুষকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা কি ১৯৩০-এর দশকে বাস করছি? এত ঘৃণা! এত মিথ্যাচার!’
যুক্তরাজ্যসহ আইসিসির ১২৪টি সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে আইনত সেসব দেশ বাধ্য। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি এই পরোয়ানা মেনে নিতে রাজি নন এবং প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমেও গ্রেপ্তার ঠেকানোর হুমকি দিয়েছেন।
The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.