আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২৬
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়তা দিতে পশ্চিম রাশিয়ায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন শুরু করেছে। কিয়েভের দাবি অনুযায়ী, ইউনিটটিতে প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি মোবাইল লঞ্চার এবং প্রায় ৯০ জন সামরিক সদস্য থাকতে পারে।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চলে অবস্থান নিতে পারে এবং সেখান থেকে রাশিয়ার ১১২তম ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পাঠানো নতুন চালানের মধ্যে প্রায় ৪০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ও বিস্ফোরক বহনক্ষমতা রাশিয়ার ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় বেশি হলেও এগুলোর নির্ভুলতা তুলনামূলক কম। ইউক্রেনের আশঙ্কা, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বেসামরিক হতাহতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মধ্য ইউক্রেনের একটি আবাসিক এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। দেশটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে রাশিয়ার হামলা প্রতিহত করা ইউক্রেনের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেনা সহায়তা দিয়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতেও সই করে, যা তাদের সামরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।
হ্যাশট্যাগ:
#রাশিয়াইউক্রেনযুদ্ধ #উত্তরকোরিয়া #রাশিয়া #ইউক্রেন #ক্ষেপণাস্ত্র