শাপলা চত্বর হত্যামামলায় সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশের আবেদন
জাতীয় ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬
২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ চাওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই উদ্যোগ নিয়েছে।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, পলাতক একজন আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রথমবারের মতো ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হওয়া হচ্ছে।
প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং তার বিচার নিশ্চিত করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’
এছাড়া মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও পর্যায়ক্রমে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইন্টারপোলের নিয়ম অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে এ বিষয়ে অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় পরবর্তী তথ্য ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনকে জানাতে বলা হয়েছে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজলাস সূত্রে জানা গেছে,
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলি চালানোর ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ জুলাই ওই সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পলাতক আসামি শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ।
আসামি তালিকায় আরও রয়েছেন
তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন মাহমুদ ও গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার।
সাংবাদিকদের মধ্যে আসামি হয়েছেন—একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা।
The Continental Herald (TCH News) is committed to delivering accurate, timely, and trustworthy news. Stay connected with The Continental Herald for the latest updates from Bangladesh and around the world.