জাতীয় ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় দেখে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার প্রতিফলন।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির জানান, মার্কিন দূতের এই সফর ছিল মূলত পরিচিতিমূলক। তবে সফরকালে উভয় পক্ষের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী এক দশকে বাংলাদেশকে এশিয়ার সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর একটি হিসেবে দেখতে চায় এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা জোরদারের যে নীতি অনুসরণ করছে, সেখানে বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক জনসমর্থন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী করেছে। সরকার বর্তমানে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে জাতীয় স্বার্থকে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন, বেইজিং, রিয়াদসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা এখন শুধু ধর্মীয় সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপত্তা, কৌশলগত ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও অংশীদারত্ব বিস্তৃত হচ্ছে। তবে এই সহযোগিতা কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
চীনা বিনিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ চীন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশসহ সব উন্নয়ন অংশীদারের কাছ থেকেই আরও বেশি বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে। সরকার বিনিয়োগকে প্রতিযোগিতা বা সংঘাতের বিষয় হিসেবে নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানাবে।
হ্যাশট্যাগ:
#বাংলাদেশ #যুক্তরাষ্ট্র #তারেক_রহমান #পররাষ্ট্রনীতি #বিনিয়োগ #কূটনীতি
#Bangladesh #UnitedStates #TariqueRahman #ForeignPolicy #Investment #Diplomacy