আন্তর্জাতিক ডেস্ক | TCH News
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুত কমে আসায় আঞ্চলিক ও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে সহায়তা চাইছে সৌদি আরব।
দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, হুতি ও অঞ্চলটির অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরব ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে।
কর্মকর্তাদের একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থার মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিয়াদ অন্য মিত্রদের কাছ থেকেও সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এর মধ্যেই সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুতিরা ড্রোনের মাধ্যমে পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে এবং সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে। রিয়াদ মক্কাকে তাদের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে হুতিরা মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন অবকাঠামো এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার খবর পাওয়া গেছে। এতে আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন বন্ধ রয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরের পরিবর্তে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রেও চাপের মুখে পড়েছে দেশটি।
এপি জানিয়েছে, সৌদি আরব তার আন্তর্জাতিক মিত্রদের নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপের বিষয়েও আলোচনা করছে। তবে আপাতত কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইয়েমেনে উত্তেজনা কমাতে মিসর ও ওমান উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রও এখন পর্যন্ত সরাসরি এই সংঘাতে জড়ানোর ইঙ্গিত দেয়নি। তবে সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও পরিকল্পনায় সহযোগিতার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি বিশেষ দল কাজ করছে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হুতি ও সৌদি আরবের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।